আমি আমার পরিবার আত্নীয়স্বজন এমনকি শুভাকাঙ্খীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ! দেশ ছাড়া প্রবাসী !
কেন? ঈমান হারিয়েছি তাই !
আমাকে ধর্মান্ধরা বারবার তওবা করে ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসতে বলে। আচ্ছা, আমার এখানে কিছু কথা আছে !
ছোটবেলা থেকে ইসলাম শিক্ষা বই, আলেমদের ওয়াজ মাহফিল ও বিভিন্ন হুজুরদের কাছ থেকে তিনটি গল্প শুনে বড় হয়েছি, নবী সম্পর্কে।
একটি হলো ইহুদী বুড়ির রাস্তায় (নবীজির চলার পথে) কাটা বিছিয়ে রাখার গল্প, আরেকটি হলো নবীজি একটি ঈদে একটি এতিম বাচ্চাকে বাড়িতে এনে নবীজির স্ত্রীর কাছে দিয়ে তাকে গোসল করিয়ে নতুন জামা পরিয়ে আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়া, এবং তৃতীয় আরেকটি গল্প হলো হরিনীর গল্প যেখানে নবীজি একটি আটক হরিনীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং হরিনী তার বাচ্চাদের দুধ খাইয়ে আবার ফিরে এসেছিল।
এখন জানতে পেরেছি যে, এই গল্প তিনটি বানোয়াট, এগুলোর কোনোটির সহীহ প্রমান নেই !
এখন আমার ধর্মান্ধ শুভাকাঙ্খীদের কাছে প্রশ্ন হলো;
আমার দয়াল নবী এত মানবিক হলে তাকে এই মিথ্যা গল্প দিয়ে কেন ভাল বানাতে হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আগে দিয়ে তারপর আমাকে ইসলামের ছায়াতলে আহবান করুন।
এই প্রশ্নের সাথে আমার দ্বিতীয় আরেকটি চাওয়া হলো;
বুড়ির গল্পে আমরা যেমন দেখি যে, নবী ছিলেন অ-সাম্প্রদায়িক কারন বুড়িটি ছিল ইহুদী, নবী ছিলেন অত্যান্ত ধৈর্য্যশীল ও দয়ালু কারন বুড়ির বিছানো কাটা তিনি নিজ হাতে তুলে ফেলে দিতেন এবং এর জন্য বুড়ির উপর রাগ হতেন না, নবী ছিলেন মানবিক কারন বুড়ির অসুস্থতায় তিনি গিয়ে সেবা করেছিলেন।
আমার চাওয়াটি হলো নবীজির জীবনে এরকম কোনো সত্যিকারের মহান মানবিকতার ইতিহাস একটিও যদি থেকে থাকে তাহলে সেটির সহীহ প্রমান আমাকে দেখান।
তবে নবীর যুদ্ধবন্দীদের প্রতি মানবিকতা বা ধর্ম প্রচারের স্বার্থে মহানুভবতা এরকম কোনো ইতিহাস দেখতে চাই না।
আর যদি নবীর নিঃস্বার্থ মহান মানবিকতার কোনো সত্যি উদাহরন না পান, তাহলে আমার অনুরোধ থাকবে সীরাত গ্রন্থ বা ইসলামের ইতিহাস সংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ পড়ে নবীজির জীবনাতিহাস জানুন এবং দেখুন নবীজির কার্যকলাপ কেমন ছিল।